ক্রিকেটারদের ব্যক্তিজীবন নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ’

    সম্প্রতি তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। ব্যক্তিগত জীবনের জন্য গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও সমালোচনায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত মাশরাফি বিন মুর্তজা ওই ক্রিকেটারদের পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে সফলতম অধিনায়কের মতে ব্যক্তিজীবনের প্রভাব মাঠেও পড়ে। তাই সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ। মাশরাফি বলেন, ‘আসলে এটা অনেক স্বাভাবিক। একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন যতো স্মুথ হবে, তার পারফরমেন্সও ততো স্মুথ হবে। একটার সাথে একটা অনেক বেশি সংযুক্ত। এটা আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’ টাইগার দলপতি মনে করেন, তরুণদের উচিত সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনুসরণ করা। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাশ বলেন, ‘আমি চারজন ক্রিকেটারের নাম বলবো। মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল- এদের ব্যক্তিগত জীবনটা একবার দেখবেন। ওদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব কিন্তু ওরা মাঠে এসে পাচ্ছে।’ এ বিষয়ে মাশরাফি আরও বলেন, একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত জীবনই নির্ধারণ করে দেয় তার ক্যারিয়ার অথবা মাঠে তার কেমন পারফরমেন্স হবে। অতিরিক্ত মূল্যায়নের কারণে বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা অল্প বয়সেই পেয়ে যান তারকাখ্যাতি। এতে কম দিনেই তারকা বনে যাওয়া ক্রিকেটাররা চলে যান বিপথে। মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের ক্ষেত্রে যেটা হয়- একটা প্লেয়ার এসেই যখন ভালো খেলে, আমরা ধরেই নেই এখনই সে সেরা। আপনি যদি মহেন্দ্র সিং ধোনির দিকে তাকান, মানসিকভাবে এতো স্ট্রং…খেলাটাকে লাস্ট ২-৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া…টেল এন্ডারদের সঙ্গে ব্যাট করে এগিয়ে যাওয়া- এই যে মেন্টালিটি এটাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রভাব রাখে।’ মাশরাফি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ফ্লেভার কতটা কঠিন, এটা হয়তো ওরা জানেই না। ওরা এই লেভেলের ক্রিকেট খেলেনি, হঠাৎ করে এসে খেলতে গিয়ে ওদের উপর চাপ পড়ে যায়। সেক্ষেত্রে তাদের মানসিক শক্তি বা নিজেকে নিয়ন্ত্রণের শক্তিটা ঐখানে থাকে না।’