ক্যান্টিন নেই ঢাবির আইন অনুষদে, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

ক্যান্টিনের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কাজী মোতাহার হোসেন ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষদ আইন ছাড়াও ভূগোল, পরিসংখ্যান ও গণিত বিভাগের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের দিনের অধিকাংশ সময়টা এই ভবনে থাকতে হয়।

ক্লাস, ব্যবহারিক ক্লাস, সেমিনার ও গবেষণার কারণে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভাগেই অবস্থান করতে হয় শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের। কিন্তু নাস্তা বা দুপুরের খাবারের জন্য এই সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্যে নেই একটিও ক্যান্টিন। খাবার খাওয়ার জন্যে তাদের সকলকে যেতে হয় এফ মুজিবুর রহমান গণিত ভবনের ক্যান্টিনে অথবা ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) সামনের অস্থায়ী দোকানে। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। কখনও কখনও খাবার গ্রহণ না করেই ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা চালিয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

এই ভবনের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের খাবারের দুর্ভোগের সুযোগে গজিয়ে উঠছে ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু অস্থায়ী দোকান। সেখানে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ছাড়াও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

আইন অনুষদের শিক্ষার্থী মোল্লা ফারুক এহসান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আইন বিভাগের ক্লাসগুলো সাধারণত সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একাধারে হয়। মাঝখানে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা বিরতি থাকে। এ সময় গণিত ভবনের ক্যান্টিনে লাইন দিয়ে খাবার খেতে হয়, অনেক সময় ভিড় বেশি থাকার কারণে খাবার আগেই সময় শেষ হয়ে যায়। তাছাড়া সিট সংখ্যা কম হওয়ায় বেশিরভাগ সময়ই আমাদেরকে দাড়িয়ে খেতে হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় মেয়েদেরকে জানিয়ে পরিবর্তন ডটকমকে পরিসংখ্যান বিভাগের সুস্মিতা রায় বলেন, বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলোর ক্লাস খুব সকালে শুরু হয় ফলে অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে ক্লাসে আসে। ক্লাসের বিরতি দশ মিনিট থাকলেও ক্যান্টিনের অভাবে তারা নাস্তা করতে পারে না। তাছাড়া গণিত ভবনের ক্যান্টিনের খাবারের দাম অনেক বেশি ফলে অনেকে ইচ্ছা করলেও খাবার খেতে পারে না।

আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ঐশী বলেন, জগন্নাথ হলে দুদিন খেতে গিয়েছি দুদিনই হলের বড় ভাইরা আমাদেরকে বের করে দিয়েছেন। অবশ্যই অনুষদে একটা ক্যান্টিন থাকা উচিৎ।

আমাদের ডিপার্টমেন্টকে রয়েল ডিপার্টমেন্ট বলা হলেও আমাদের একটা ক্যান্টিন নেই এটা লজ্জাকর, বলেছেন আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মাসুদ। ক্যান্টিনের অভাবে মোতাহার হোসেন ভবনের সকল শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ বলেন, আমি জানি আমার ছাত্রদের খাওয়ার অসুবিধা হয়। আমাদের কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের পাঁচটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো খাবার জায়গা নেই। তবে, আমরা ছাত্রবান্ধব মানসম্মত ক্যান্টিনের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।