কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার অদম্য মেধাবী ফরিদুল ইসলামের উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অর্থাভাবে এখন পর্যন্ত ভর্তি হতে পারেনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে। হতদরিদ্র পরিবারের ফরিদুলের দু’চোখে এখন শুধুই অন্ধকার। অনিশ্চিত জীবন। স্বচ্ছল পরিবারের হাজার হাজার শিক্ষার্থী যখন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছেনা তখন ফরিদুল একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েও হতাশার সাগরে ভাসছে।
নাগেশ্বরী পৌরসভা এলাকার মালভাঙ্গা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে ফরিদুল। আইয়ুব আলী পেশায় ভ্রাম্যমান বিদ্যুতের মিস্ত্রি। বসত ভিটা ছাড়া জমিজমা নেই। নেই আয়ের বিকল্প পথ। তিন ভাইয়ের মধ্যে ফরিদুল সবার বড়। তাই পড়াশুনার মাঝে মাঝে ধরতে হয় সংসারের হাল। নুন আনতে পান্থা ফুরার সংসারে ফরিদুলের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন এখন দু:স্বপ্নে পরিনত হয়েছে।
জানাযায়, ২০১৪ সালে বল্লভপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হয় ফরিদুল। সংসারের টানাপোড়নে মাঝেও শুধুমাত্র নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তির কারণে শিক্ষকদের সহযোগিতায় ২০১৬ সালে নাগেশ্বরী ডিগ্রী কলেজ থেকে জিপিএ-৪.৫৮ পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করে। ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের ইচ্ছে থাকলেও অর্থের অভাবে ওই বছর কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেনি সে। মেধাবী সন্তানের আলো ভরা ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যেতে দেখে তার বাবা-মা মর্মাহত। পুরো পরিবার অনাহারে-অর্ধাহারে থেকেও ফরিদুলকে জুগিয়েছে সামান্য অর্থ। এ অর্থে এবার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয় সে। এরমধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সি’ ইউনিটে ৪৭৯তম, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এফ’ ইউনিটে ৫৩তম, ‘বি’ ইউনিটে ২৪০তম, ‘ডি’ ইউনিটে ১৭৮তম এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ-ওয়ান’ ইউনিটে ৪১৮তম স্থান পায়। কয়েক দিনের মধ্যে ভর্তির সময় শেষ হয়ে যাবে আর এ জন্য সহায়তার আসায় বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ফরিদুল।
প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা ফরিদুল ইসলাম হাল ছাড়তে নারাজ। তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি অর্থাভাবে। কিন্তু মন মানছিলনা। বাবাকে বলে এবারে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সুযোগ পেয়েছি। এখন ভর্তি হতে পারছিনা। মনে হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা না দেয়াই ভালো ছিল। এখনতো বাবা-মা ভেঙ্গে পড়েছে। তাই আমার মনের কষ্ট প্রকাশ করতে পারছিনা। সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস কেউ না কেউ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবেন। বদলে যাবে আমার জীবন। গরিবের শেষ ভরসা আল্লাহ্।
ফরিদুলের বাবা আইয়ুব আলী বলেন, গরীবের ঘরে ভালো ছাত্র হওয়ার কী দরকার ছিল। না পারছি ছেলেকে টাকা দিতে। না পারছি পড়া বন্ধ করে দিতে। ছেলের মুখ দেখে খুব কষ্ট হয়। ফরিদুলের মা গৃহিনী ফজিলা বেগম বলেন, ছেলেটার জন্য সবসময় কষ্ট হয়। কে তাকে সাহায্য করবে। ওকে ভর্তির টাকা দিতে না পেরে আড়ালে কাঁদি। ওকে বারণ করতেও পারছিনা। যদি কেউ সাহায্য করতো- ‘আমার ছেলেটা মানুষ হতে পারত’।
বল্লভপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ফরিদুল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। আমাদের বিদ্যালয় থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু কলেজে পড়তে তো টাকার প্রয়োজন এজন্য তার ফল কিছুটা খারাপ হয়েছে। এখনতো শুনছি সে বিশ্বদ্যিালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে কিন্তু ভর্তি হতে পারেনি। সমাজে অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি আছেন তারা এগিয়ে আসলে মেধাবী ফরিদুল ঝড়ে পড়তো না। ফরিদুলকে সহায়তা করতে চাইলে ০১৭৯৬৭৬১৮৪৬ এ নম্বরে যোগাযোগ করতে আহ্বান জানান তিনি।