print
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসের অফিস সহকারী কর্তৃক দলিলে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে নাম খারিজ, দাখিলা ও খতিয়ান ছাড়াই জমি রেজিষ্টারী করতে সাব-রেজিষ্টারকে চাপ প্রয়োগ করায় ভুরুঙ্গামারীতে জমি রেজিষ্টারী বন্ধ রয়েছে। এতে করে জনসাধারনের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সাব-রেজিষ্টার অফিসে গত ২৪ সেপ্টেম্বর মোঃ নাবিব আফতাব সাব-রেজিষ্টার হিসাবে যোগদান করে প্রশিক্ষন শেষে গত ২৫ অক্টোবর দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন। কিন্তু তিনি জমির নাম খারিজ, দাখিলা ও খতিয়ান ছাড়া জমি রেজিস্ট্রি অস্বকৃতি জানান। এ অবস্থায় অবস্থায় নাম খারিজ, খতিয়ান ও দাখিলা ছাড়া জমি রেজিষ্টারী বন্ধ করে দিলে অফিস সহকারী দিলীপ কুমার দলিল লেখকদের সঙ্গে গোপনে আতাত করে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে সাব-রেজিষ্টারকে জমি রেজিস্ট্রি করতে চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু তাতে সাব-রেজিষ্ট্রার রাজি না হলে দলিল লেখকরাও জমি রেজিষ্ট্রির কাজ বন্ধ করে দেয়।
এতে করে জমি রেজিষ্টারী বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের জনসাধারন। জরুরী আর্থিক সমস্যার সমাধান, চিকিৎসার কারনে অনেকে জমি বিক্রি করতে না পেয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। জমি রেজিষ্টারী বন্ধ থাকায় অফিসে কর্মচারীদের মধ্যে নানা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সাব-রেজিষ্টার অফিসের দলিল লেখক শামছুল আলম মতি জানান, সাব-রেজিষ্টার নাবিব আফতাব দায়িত্ব নেয়ার পর মাত্র ১৮৪টি দলিল পার করেছেন। এরপর থেকে রেজিষ্ট্রি বন্ধ আছে। জমির কাগজ নিয়ে নানা রকম হয়রানীর কারনে জমি রেজিষ্ট্রি আপাতত বন্ধ রয়েছে। আমরা স্যারের সাথে কথা বলেছি। আগাম সোমবার থেকে জমি রেজিষ্ট্রি হবে বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উক্ত অফিস সহকারী দিলীপ কুমারের নিকট জমি রেজিষ্টারী বন্ধ কেন জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাব-রেজিষ্টার নাবিব আফতাব জানান, জমি রেজিষ্টারী বন্ধ কথাটি সঠিক নয়, সরকারী আইন মোতাবেক জমির নাম খারিজ, খতিয়ান ও দাখিলা যাচাই বাছাই করে জমি রেজিষ্টারী করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, জমির কাগজ পত্র সঠিক করে রেজিষ্টারী করতে কোন বাঁধা নেই তবে দলিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে খারিজ, দাখিলা ও খতিয়ান ছাড়া জমি রেজিষ্টারী করার কোন সুযোগ নেই।

LEAVE A REPLY