কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে নারী-শিশুসহ আটক ৩৫

0
122
print
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ঃ ৩০.০৮.১৭
দালালদের মাধ্যমে অবৈধ পথে ভারতে যাওয়ার সময় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট সীমান্তে নারী-শিশুসহ ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে স্থানীয় জনগণ তাদের আটক করে। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ও বিজিবি এসে ওই বাড়িতে পাহাড়ায় রেখে বুধবার সকাল ১১টায় তাদের নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেয় পুলিশ ও বিজিবি। আটক বাংলাদেশী নাগরিকদের বাড়ি খুলনা, সুনামগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে অটোবাইকযোগে বালারহাট বাজার হয়ে সীমান্তে যাচ্ছিল ওইসব লোকজন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে অটোবাইক আটক করে জানতে পারে দালালরা তাদের ভারতে নিয়ে যেতে এ পথে এনেছে। পরে নারী-শিশুসহ ৩৫ জনকে বালারহাট বাজার সংলগ্ন নুর ইসলাম নুরুর বাড়িতে নেয়া হয়। সবাই ক্ষুধার্ত ছিল। পরে তাদের রাতের খাবার খাওয়ানো হয়। রাতেই বিজিবির বালারহাট ক্যাম্পে ও ফুলবাড়ী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
আটককৃদের বাড়ি খুলনা সদর, মোড়লগঞ্জ, জিয়ানগর, সুনামগঞ্জ, বাগেরহাট ও দক্ষিণসুরমা উপজেলায়। এদের মধ্যে শামিম নামের একজন ও তার স্ত্রী জেসমিনকে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানাচ্ছেন তার আটক স্বজনরা।
আটকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাবা-মাসহ স্বজনরা দিল্লীতে রয়েছেন। তাদের সাথে ঈদ করতে দালালদের সঙ্গে ভারতে যাওয়ার চুক্তি করে রোববার তারা সীমান্তে আসেন। কিন্তু কাঁটাতার পার হওয়ায় সুযোগ না পাওয়ায় দালালরা তাদের একাধিক বাড়িতে রাখে। তারা আরও জানান খলিশাকোঠাল ও বালাতাড়ি সীমান্ত দিয়ে তাদের ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানায় পৌছে দেয়ার জন্য দুই দেশের সীমান্তের দালাল চক্র জন প্রতি চার হাজার টাকা করে নিয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, তারা সীমান্ত এলাকার বাইরে আটক হয়েছেন। তাদের যার যার নিজ গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি’র অধীন শিমুলবাড়ী কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার দীনেশ চন্দ্র বলেন, উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ মোতাবেক উদ্ধারকৃতদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নাগেশ্বরী বি-সার্কেল এসপি আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া নারী পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ, ৮জন নারী ও ৬জন শিশু রয়েছে। তাদের লিখিত নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।
ফুলবাড়ি উপজেলা নিবার্হী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানে পুলিশ বিজিবি ও চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন । সকলের পরামার্শে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয় ।

LEAVE A REPLY