ম্যাচ শুরুর আগে হঠাৎ ওল্ড ট্রাফোর্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন স্ট্যান্ড ও স্ট্রেটফোর্ড এন্ড থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সরে যেতে বলা হয় দর্শকদের। একটু পরে জানা যায়, সেখানে গ্যাস পাইপের ভেতরে তারযুক্ত একটা মোবাইল বোমা ফাটানো হয়েছে। ততক্ষণে গ্যালারি খালি হয়ে গেছে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-বোর্নমাউথের ম্যাচও স্থগিত হয়ে গেছে।

পরে পুরো স্টেডিয়াম ফাঁকা করে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জানা গেছে, যে বোমাটা পাওয়া গিয়েছিল, সেটা আসলে মহড়ার সময় একটা নিরাপত্তা সংস্থা ভুল করে ফেলে গিয়েছিল! সেটা আসল বোমাও ছিল না!
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ফুটবল মাঠে নিয়মিতই মহড়া হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে বিপদ সামলানো হবে, সেটারও একটা পরীক্ষা হয়ে যায়। গত সপ্তাহেই ওল্ড ট্রাফোর্ডে এ রকম একটা মহড়া হয়ে গিয়েছিল। সেখানেই ব্যবহার করা একটা নকল বোমা ফেলে আসা হয়েছিল গ্যালারির একটা টয়লেটে। সেটা নিয়েই পরে তুলকালাম হয়ে যায়।
প্রিমিয়ার লিগে এ রকম ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৪ সালে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের মাঠেও এ রকম একটা বোমা পাওয়া গিয়েছিল। দর্শকদেরও একইভাবে বের করে দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, ওটাও এ রকম নকল বোমা ছিল। কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডে যেটা হলো, সেটা ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষের জন্য বেশ বিব্রতকরই।
বোর্নমাউথের সাড়ে তিন হাজার সমর্থকের জন্য ব্যাপারটা চূড়ান্ত ভোগান্তিরই। ৫০০ মাইল ঘুরে দক্ষিণ উপকূল থেকে ম্যানচেস্টারে এসেছিল তারা। কিন্তু ম্যাচটা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এখন আবার ফিরে যেতে হচ্ছে। অবশ্য এর মধ্যেই প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবারেই আবার ম্যাচটা হবে। গত ম্যাচের টিকিট দিয়েই সবাই ঢুকতে পারবে। তবে ইউনাইটেড দর্শকদের জন্য সেটি এখন মূল্যহীনই।
কাল সোয়ানসির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পরেই একরকম নিশ্চিত হয়ে গেছে, ইউনাইটেড শীর্ষ চারে থাকছে না। বোর্নমাউথকে এখন শুধু হারালে চলবে না, তাদের জালে ১৯ গোল দিতে হবে! গোল ব্যবধানে ইউনাইটেডের চেয়ে যে অনেক এগিয়ে সিটি!