ওঝার অপচিকিৎসায় প্রাণ গেল মেধাবী ছাত্রের

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পরিবারের অসচেতনতা ও ওঝাদের টানাটানির মাঝে পড়ে বৃহস্পতিবার সকালে টিপু সুলতান নামে ১০ম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রের মমাির্ন্তক মৃত্যু হয়েছে।

সে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ চর পঁাচুরিয়া গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. আব্দুল মান্নান মোল্লার একমাত্র ছেলে ও স্থানীয় দেওয়ানপাড়া রহমতউল্লাহ কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র।

এলাকাবাসী জানায়, বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় টিপু সুলতানের বাম হাতে বিষধর সাপে কামর দেয়। এরপর সে ভীষণ যন্ত্রণা অনুভব করলে বিষয়টি সে তার মাকে জানায়। এরপর রাত আড়াইটার দিকে পরিবারের সদস্যরা ভ্যানে করে পাশ্বর্বতীর্ গোয়ালন্দ পৌরসভার নগর রায়েরপাড়া গ্রামের কথিত ওঝা গোবিন্দ রায়ের স্ত্রী রাধা রাণীর কাছে নিয়ে যান।

কথিত ওই ওঝা সেখানে দীঘর্ দেড় ঘণ্টা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে বিষমুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন। এরপর তিনি পাশ্বর্বতীর্ সুভাষ নামের আরেক কবিরাজের কাছে বিষের নিস্ক্রিয় হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পাঠান। সুভাষ কবিরাজ প্রায় ১ ঘণ্টা ঝাড়-ফঁুক করে টিপু সুলতানকে ফের রাধা রাণীর কাছে পাঠান। রাধা রাণী তখন অবস্থা বেগতিক দেখে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামশর্ দেন।

এরপর ভোর ৬টার দিকে রোগীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে সাপেকাটা রোগীর ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে দ্রæত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে যখন টিপুকে ফরিদপুরে নিয়ে যায় তখনো সে জীবিত ছিল। কিন্ত
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমর্কতার্ ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, টিপুকে অনেক দেরিতে হাসপাতালে আনা হয়। রাতভর ওঝাদের দিয়ে ঝার-ফঁুক করায় সে মারাত্মকভাবে বিষে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। যে কারণে শেষ পযর্ন্ত তাকে বঁাচানো যায়নি। কাউকে সাপে কামড়ালে বিলম্ব না করে রোগীকে দ্রæত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি এলাকাবাসীকে পরামশর্ দেন।