এরশাদ আমলেই রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ: গয়েশ্বর

পঁচাত্তরের পরে জিয়া নয়, এরশাদ আমলেই রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জামায়াতে ইসলামী রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে এবং একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ১৯৮৪ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের আমলে।’

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স কক্ষে সম্মিলিত ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু ও যুগ্ম সম্পাদক সাইদ হাসান মিন্টুর মুক্তির দাবিতে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১৯৭৪ সালে বাকশাল গঠনের পরও ১৯৭৯ সালে যে সংসদ নির্বাচন হয়, ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী দল ছিল না। তখন ছিল ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল)। যার নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা আবদুর রহীম। মূলত জামায়াতে ইসলামী রেজিস্ট্রেশন ও রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ১৯৮৪ সালে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের মুখে প্রায় বলতে শোনা যায়, জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। কিন্তু বিষয়টি অনেকেই জানেন, জিয়াউর রহমান কখনও জামায়াতে ইসলামীকে বৈধতা দেননি। আর ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে এরশাদকে যৌথভাবে বৈধ করেছে জামায়াত, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী দলের নিবন্ধন নেই। কিন্তু জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের যোগাযোগ রয়েছে। ক্ষমতাসীনরা মুখে যতই গালাগালি দিক না কেন, রাতের অন্ধকারে ঠিকই জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, আগামী নির্বাচন বিএনপিকে বাদ দিয়ে হবে না, হতে দেওয়া হবে না। সারাদেশে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া শিগগিরই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রৃপরেখা দেবেন। নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিবর, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা শরীফ হোসেন প্রমুখ।