এফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল, অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরল বাংলাদেশ

    তাজিকিস্তান যাওয়ার আগে অনূর্ধ্ব-১৪ কিশোরী ফুটবল দল বলেনি চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে। কারণ সামনে বড় বাধা ছিল ভারত। ফাইনাল খেলার লক্ষ্য নিয়ে তাজিকিস্তান গিয়ে বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবল দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঘরে ফিরেছে। সোমবার রাতে তাজিকিস্তান থেকে ঢাকায় আসে অনূর্ধ্ব-১৪ বাংলাদেশ কিশোরী ফুটবল দল।
    কাজী সালাহউদ্দিন দায়িত্ব নিয়ে বসতেই এমন সুখবর পেয়েছেন। তবে সালাহউদ্দিন পুরুষ ফুটবলের সাফল্যের চেয়ে মেয়েদের ফুটবলের সাফল্য তুলনা করেন না। সালাহউদ্দিন বলেছেন,‘বিশ্ব ফুটবলে নারীদের অবস্থান অতটা উপরে না। আমি কাউকে খাটো করছি না। আমরা সাফল্য পেয়েছি। তবে পুরুষ ফুটবলের চেয়ে নারী ফুটবলের সাফল্য পাওয়াটা সহজ।’
    তাজিকিস্তানের রাজধানী দুসানবেতে রবিবার অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশ ৪-০ গোলে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। এই টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে ছিল বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভারত। বাংলাদেশ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে নেপালকে উড়িয়ে দিয়েছিল। ৯-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার টিকিট নিশ্চিত করে। দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ ভারতকেও উড়িয়ে দিয়ে তাক লাগায়। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে যায়। মেয়েদের ফুটবলের যে কোনো আসরে এবারই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৪ বাংলাদেশ কিশোরী ফুটবল দল ভারতকে হারিয়ে রেকর্ড করেছে।
    সেমিফাইনালে স্বাগতিক তাজিকিস্তানকেও উড়িয়ে দেব এটা যেন কল্পনাও করেনি কেউ। ম্যাচ শেষে স্কোর লাইনে দেখা গেলো বাংলাদেশ ৯-১ গোলে হারিয়েছে তাজিকিস্তানকে। ফাইনালের মঞ্চে আবারও ভারতের দেখা পায় বাংলাদেশ। এবার সাজেদা, তহুরা, মনিকা, আঁখি, অনুচিংরা ভেবেছিল ভারত ছাড় দেবে না। সব ধারণা পাল্টে দিয়ে উল্টো বাংলাদেশই যেন ভারততে উড়িয়ে দিলে ৪-০ গোলে। এই টুর্নামেন্টে পর পর দু’বার বাংলাদেশ হারালো ভারতকে।
    এটা বিরল রেকর্ড মেয়েদের ফুটবলে। প্রথম ম্যাচের চেয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে আরো ভালো খেললো বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ৪-১ স্কোর ছিল দ্বিতীয় ম্যাচে, ফাইনালে সেটা হয়েছে ৪-০।  ৪ ম্যাচে বাংলাদেশের গোল সংখ্যা ২৫। এএফসি পশ্চিম, পূর্ব ও আসিয়ান জোনের কোন দেশ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি গোল করতে পারেনি। সর্বোচ্চ গোলদাতা তহুরা (১০)।