এক সময়ের ধূ-ধূ বালুচরে টমেটোর ঢেউ

প্রায় সকলেই সবজি হিসেবে টমেটো খেয়ে থাকেন। এছাড়াও টমেটো ক্যান্সারকে দূরে রাখে, হাট্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে, ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাসহ টমেটোর রয়েছে অনেক গুন। বহু গুনের অধিকারী টমেটো এবার ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দেড় শতাধিক হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার দত্তের বাজার, টাঙ্গাব ও চরআলগী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে বদলে গেছে অন্তত ৪ শতাধিক কৃষকের ভাগ্য। এখন উপজেলার দিগন্তজুড়ে লাল টমেটো ক্ষেতের সমারোহের পাশাপাশি বাম্পার ফলনে খুশি চাষীরা। কৃষি জমিতে টমেটোসহ অন্যান্যে সবজির চাষে কৃষকরা ব্যাপক সাফল্যে পাওয়ায় দিন দিন এসব চাষের দিকে ঝুকে পড়ছেন। এসব ইউনিয়নের উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে রপ্তানী হচ্ছে।
বর্তমানে উপজেলার টাঙ্গাব ইউনিয়নের বাখালী, বাশিয়া ও টাঙ্গাব গ্রামে, পাঁচবাগ ইউনিয়নের চরশাঁখচূড়া, খুরশিদ মহল, গাভীশিমুল গ্রামে, চরআলগী ইউনিয়নের বালুয়া কান্দা, জয়ারচর ও চরআলগী গ্রামে এবং দত্তের বাজার ও নিগুয়ারী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকভাবে টমেটো উৎপাদিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের উপজেলার মিষ্টি কুমড়া ব্যবসায়ীদের কাছে পৌছে যাচ্ছে এতদাঞ্চলের রবি শস্যের অন্যতম মিষ্টি কুমড়া। কৃষকরা জানান এখন টমেটো বিক্রি প্রায় শেষের দিকে।

ছবি-আমার সংবাদ
স্থানীয় কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে গত কয়েক বছর যাবৎ কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় এখন গফরগাঁওয়ে উৎপাদিত অধিকাংশ সবজিই বিষমুক্ত। এ এলাকার কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজি পার্শবর্তী গাজীপুরের মাওনা ও চান্দনা চৌরাস্তা সহ কয়েকটি আড়ৎ হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হচ্ছে।
বামনখালী গ্রামের কৃষক মুর্শিদ মিয়া, এবার তিনি ১০ একর (১০০ কাঠা) জমিতে টমেটো চাষ করেন। এতে খরচ হয় প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তিন কিস্ততে ক্ষেত থেকে টমেটো তুলে প্রায় ৮ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। এখন টমেটো বিক্রি প্রায় শেষ। এছাড়াও বাজার দর কমে যাওয়ায় টমেটো তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

একই গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া জানান, এবার তিনি আড়াই একর (২৫ কাঠা) জমিতে টমেটো চাষ করেন। এতে তার খরচ হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তিনি প্রথমে ১৮’শ, ২য় বার ১২’শ ও ৩য় বার ২৫০ টাকা মন ধরে প্রায় দুই লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন।

এছাড়াও টাঙ্গাব, বামনখালী, বটতলা গ্রামের আঃ রাজ্জাক দেড় একর, আল আমিন দেড় একর, আব্দুল বাতেন এক একর, হোছেন মিয়া আড়াই একর, তাজ উদ্দিন দেড় একর, জহিরুল ইসলাম এক একর, রইছ উদ্দিন দুই একর, বেলালী ৪ একরসহ এই তিন গ্রামের অন্তত দেড় শতাধিক কৃষক টমেটো চাষ করেছেন। বাম্পার ফলন হওয়ার তারা সকলেই বেশ লাভবান হয়েছেন। এছাড়াও চরআলগী, দত্তের বাজার ও পাচবাগ ইউনিয়নের আরো অন্তত আড়্ইা শতাধিক কৃষক টমেটো চাষ করেন।

বটতলা গ্রামের গৃহবধূ হাজেরা বলেন দৈনিক ২৫০টাকা মুজুরীর নির্ধারিত থাকায় প্রতিদিন কাজ করতে পারছেন। অন্যান্য সময় কাজ না থাকায় এই শীতকালিন সময়টার উপর নির্ভর করতে হয়। এ কাজের উপরই তাঁর পুরো পরিবার নির্ভর করে।

উপজেলা কৃষি অফিসার এস. এস ফারহানা হোসেন জানান, টাঙ্গাব, চরআলগী, নিগুয়ারী ও দত্তের বাজারসহ কয়েকটি ইউনিয়নে এবার টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। টমেটোর বাম্পার ফলন গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি বাম্পার ফলন হওয়ায় টমেটো চাষীরা বেশ লাভবান হয়েছেন।

টাঙ্গাব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (সাগর ) জানান, আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় চর অত্র এলাকায় এবছর সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে । তবে টাঙ্গাব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পুলের ঘাট বাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটরি রাস্তা পাকা হলেই, কৃষকরা উৎপাদিত শাক-সবজির ন্যায্য মূল্য পাবে।