এক দফা এক দাবির কথা ভাবছে বিএনপি

সহায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের এক দফা এক দাবি নিয়ে আন্দোলনের চিন্তাভাবনা চলছে বিএনপিতে। আন্দোলনের পাশাপাশি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ ও ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলবে। এই দুটো লক্ষ্য নিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই জেলায় জেলায় সমাবেশ হবে বিএনপির। তাতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এসব সমাবেশে খালেদা জিয়ার উপস্থিত থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা করা, জনগণের সমর্থন বাড়ানো এবং সহায়ক বা নিরপেক্ষ সরকার দাবির আন্দোলন বেগবান করা। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, গত বুধবার রাতে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না যাওয়ার সুর ছিল অনেক নেতার মুখে। তাদের মত নিরপেক্ষ বা সহায়ক সরকারে দাবি আদায়ে আন্দোলন জরুরি। একই সুর দেখা গেছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির সমাবেশেও।
এদিকে পথে পথে বাধা এবং কৃত্রিম পরিবহন সংকট কাটিয়ে সমাবেশে বিপুল সমাগম দেখার পর উল্লেখিত এক দফা এক দাবির প্রতি উৎসাহ আগের থেকে অনেক বেড়ে গেছে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের। তবে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর খালেদা জিয়াকে কয়েকদিন আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশাল সংবর্ধনা এবং রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ বিতরণের যাত্রায় অসংখ্য নেতাকর্মীর ঢল দেখেও আন্দোলনের জন্য মাঠে নামার শক্তি ও সাহস বেড়েছে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের। আগে যেসব কেন্দ্রীয় নেতা আন্দোলনের প্রতি কম উৎসাহ দেখাতেন এবং নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দিতেন সেসব নেতাও এখন গুনগুন করে আন্দোলনের গান গাইছেন। বিএনপির বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতা আমার সংবাদকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন তো হবেই না-এমনও হতে পারে আদৌ দেশে নির্বাচন হবে কিনা সে শঙ্কাও রয়েছে। তাই সময় এবং সুযোগ থাকতে নিরপেক্ষ সরকার ফিরিয়ে আনতে বা সহায়ক সরকারের দাবি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।

নেতারা আরো বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপিবিহীন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করতে এবং পরে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে টানা তিনমাস আন্দোলন করে আওয়ামী সরকার হটানোর ব্যর্থতা তারা ভুলে যেতে চান। এখন আর আগের মতো দলের নেতাকর্মীদের মনে ভয় নেই। প্রতিটি কর্মসূচিতে ব্যাপক সমাগম দেখেই তা মনে হচ্ছে। তবে আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চালাবে দল। কারণ লন্ডনে চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া ও তার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানের কূটনৈতিক তৎপরতা বেশ কাজে লাগছে। বিদেশিরা বাংলাদেশে এসে সরাসরি নিরপেক্ষ সরকারের কথা না বললেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা জোর গলায় বলছেন। তাতে সরকারেরও টনক নড়ছে। এ অবস্থায় আন্দোলন সফল হবে বলেই ধারণা বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতার।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের মত হচ্ছে, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করে কোনও লাভ নেই। কারণ ভোট সুষ্ঠু হবে না। তাই সহায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের দাবি নিয়ে রাজপথে সব নেতাকর্মীর ঝাঁপিয়ে পড়া ছাড়া বিকল্প নেই। নেতাকর্মীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রমাণ করছে আন্দোলনে নামতে তারা একপায়ে খাড়া। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে আন্দোলন ছাড়া সহায়ক বা নিরপেক্ষ সরকার আনা সম্ভব নয়। নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস এবার আন্দোলনের ফসল ঘরে উঠবেই।