ঈদের আগে টেনশনে ঘুম হচ্ছে না কাদেরের

    রোজার ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের টেনশনে ঘুম হচ্ছে না সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। তিনি ভেবেছিলেন, চলতি বছর আর এমনটি হবে না। কিন্তু জনমানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না হওয়ায় আক্ষেপ পুড়াচ্ছে তাকে।
    শনিবার (০৯জুন) ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে রাজধানীতে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভায় বক্তব্য রাখছিলেন সড়ক মন্ত্রী। এসময় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করার বিষয়টি তুলে ধরে এ কথা বলেন।

    শেষ সপ্তাহে পড়েছে রোজা। ২৯টি রোজা হলে ঈদ হবে আগামী ১৬ জুন শনিবার। আর ৩০ রোজা হলে ঈদ হবে পরদিন। আর ঈদ করতে প্রতি বছর শহর থেকে গ্রামে স্বজনদের কাছে ছুটে যায় কোটি মানুষ। আর এই যাত্রাটা হয় শেষ সপ্তাহেই।

    সড়কে যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপে যান চলাচলের গতিও থাকে ধীর। তার ওপর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার লেনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় টোল আদায়ে ধীরগতির কারণে যানজট পরিস্থিতি, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেন এবং ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর অংশে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি এর কাজ চলমান থাকায় বাড়ি ফেরা নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ আছে।

    তবে সড়কমন্ত্রী গত এক মাস ধরে নিশ্চিত করে আসছেন, সড়কের কারণে কোথাও যানজট হবে না। এরই মধ্যে বিআরটি এর কাজ স্থগিত করা হয়েছে, সড়কের পুরোটা যেন যাতায়াতে ব্যবস্থার করা যায়, সে জন্য সড়কের পাশে অবৈধ দখলদারদের সরানো হয়েছে আর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মেঘনা গোমতী সেতুর পাশাপাশি ফেরি পারাপারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    আজও সড়কমন্ত্রী নিশ্চয়তা দেন, সড়কের কারণে কোথাও যানজট হবে না। বলেন, ‘আমি আশা করি সড়কের জন্য রাস্তায় কোনো যানজট হবে না। সড়কে নির্বিঘ্নে যান চলাচলের জন্য আমি ক্রমাগত মনিটরিং করে যাচ্ছি। এ নিয়ে আতঙ্ক না ছাড়ায়, জনগণ যাতে কষ্ট না পায়।’‘আমি আশস্ত করে বলছি যে সংকট হলে ওখানে আমি নিজেই গিয়ে দাঁড়াব। প্রয়োজনীয় ফোর্স নিয়োগ দিয়েছি।’

    রোজার শুরু থেকেই ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে মহাসড়কে চলমান উন্নয়ন কাজগুলো তদারকিতে বারবার ছুটে যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের। ভাঙা সড়কগুলো মেরামতের বিষয়েও দিয়েছেন নির্দেশনা। ৮ জুনের মধ্যে সড়ক মেরামতের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি, সেই সময় সীমা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

    সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘রাতের ঘুম অর্ধেক নষ্ট হয়ে গেছে। ঈদ আসলেই এ অবস্থা হয়। গত বছর ভেবেছিলাম এ বছর আমাকে দুচিন্তায় পড়তে হবে না। কিছু কিছু বিষয় আমাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার, তা ঘটানো এ দেশে কঠিন। মন মানসিকতার পরিবর্তন না হলে রাস্তার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা খুবই কঠিন।’ ‘ছোট ছোট ব্যাটারিচালিত গাড়ি রাস্তায় (মহাসড়ক) চাই না। দ্বিতীয়ত. ফিটনেসবিহীন গাড়ি চাই না। ভারী যানবাহন ঈদের আগের তিনদিন চলবে না। উল্টোপথে গাড়ি যে চালাতে পারে সেই বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতে হবে।’

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তিন সেতুর (কাঁচপুর ব্রিজ, মেঘনা ব্রিজ ও দাউদকান্দি ব্রিজ) সমস্যা তো ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবে, তা আগেও ছিল।’

    ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিষয়ে কাদের বলেন, ‘বৃষ্টিবাদলের কারণে নির্মাণাধীন ঢাকা-এলেঙ্গা মহাসড়ক এখানে কিছুটা বিঘ্ন হতে পারে। তবে ঈদের নির্বিঘ্নে চলাচল করার জন্য রিপেয়ারিং কাজ বন্ধ রেখেছি।’ ‘এছাড়াও রাস্তায় যেসকল খোঁড়াখুঁড়ি রয়েছে তা বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছি। ঈদের পরেই তা করার জন্য বলেছি।’

    ঈদ যাত্রায় চলাচলের জন্য বিআরটিসির ৫৪টি গাড়ি বিকল্প হিসাবে রাখা হবে বলেও জানান সড়কমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলেই এগুলো ব্যবহার করা হবে। টঙ্গী, গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনালে এগুলো থাকবে।’

    তিনি বলেন, ‘আশা করি সড়কের জন্য রাস্তায় কোনও যানজট হবে না। সড়কে নির্বিঘ্নে যান চলাচলের জন্য আমি ক্রমাগত মনিটরিং করে যাচ্ছি। যাতে জনগণ যাতে কষ্ট না পায়।