আ.লীগের খুলনা জয়

Smiley face

*ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ভোটকেন্দ্র দখল ও জালভোট প্রদানসহ নানা অভিযোগ
*স্থগিত ৩ কেন্দ্র ছাড়া বাকি ২৮৬টিতেই চমৎকার ভোট হয়েছে : ইসি

ফের খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মেয়র হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রবীণনেতা তালুকদার আব্দুল খালেক। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে প্রায় ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খালেক। এবার তিনি ৬৭ হাজার ৯৪৬ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন। গতকাল অনুষ্ঠিত ভোটে বেসরকারিভাবে পাওয়া বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী সিটি করপোরেশনের মোট মোট ২৮৯ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩টিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি ২৮৬ টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে নৌকা প্রতীকে তালুকদার আব্দুল খালেক এক লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন এক লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট। এদিকে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে খেলার কী দরকার ছিল? এ নির্বাচন না হলে তো সমস্যা ছিলো না। পুলিশের সামনে নৌকার লোকজন কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারছে। ধরাও পড়ছে। অথচ তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচন কমিশনের লোকজনও এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচনের কাজে জড়িত কর্মকর্তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। জালিয়াতি, কারচুপি, ভোট ডাকাতির ফলাফল খুলনাবাসী মেনে নেবে নাÑ যোগ করেন বিএনপির এই মেয়রপ্রার্থী।তবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল, বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও জালভোট দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে খুলনার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে চমৎকার নির্বাচন হয়েছে দাবি করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাংবাদিকদের ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘কেসিসির ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩টিতে অনিয়মের কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বাকি ২৮৬টি কেন্দ্রে চমৎকার ভোট হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ কেসিসি ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনে মোট ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। তার মধ্যে ২৩৪টিই ছিল ইসির তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন ৫ জন। সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৪৮ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত শফিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত অধ্যক্ষ মাওলানা মুজাম্মিল হক এবং সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ তিন প্রার্থীর কে কত ভোট পেয়েছেন এ খবর লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।
ভোটগ্রহণে যত অভিযোগ:
সকাল ৮টা থেকে একযোগে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল সোয়া ৯টার পর থেকে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল ৮টার পর পাইওনিয়ার গালর্স স্কুলে ভোট দেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। অন্যদিকে সকাল পৌনে ৯টায় রহিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ৩০টি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুুল খালেক একে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি এজেন্ট দিতে না পারলে তার দায় অন্যদের হতে পারে না। এদিকে জেলা নির্বাচন অফিসার আনিস রহমান জানান, বেলা সাড়ে ১১টার পর ২০২নং ইকবাল নগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের একটি বুথে ক্ষমতাসীন দলের ৫০-৬০ লোক প্রিজাইডিং অফিসার খলিলুর রহমানের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে প্রকাশ্যে ১১৫টি ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ফেলে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী পুরোপুরি ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এই কেন্দ্রে মোট ভোট রয়েছে ২ হাজার ২১টি।এছাড়া খুলনা মহানগরীর ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় ভোটকেন্দ্র ও লবনচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, দুপুর ১২টার দিকে ৮-১০ জনের একদল দুষ্কৃতকারী কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে কাউন্সিলর প্রার্থী নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রাসেলের পক্ষে ঝুড়ি মার্কায় সিল মারে। এ ঘটনায় ভোটগ্রহণ তাৎক্ষণিক স্থগিত করা হয়।
ভোটগ্রহণে যত অভিযোগ:
সকাল ৮টা থেকে একযোগে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল সোয়া ৯টার পর থেকে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল ৮টার পর পাইওনিয়ার গালর্স স্কুলে ভোট দেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। অন্যদিকে সকাল পৌনে ৯টায় রহিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ৩০টি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুুল খালেক একে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি এজেন্ট দিতে না পারলে তার দায় অন্যদের হতে পারে না। এদিকে জেলা নির্বাচন অফিসার আনিস রহমান জানান, বেলা সাড়ে ১১টার পর ২০২নং ইকবাল নগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের একটি বুথে ক্ষমতাসীন দলের ৫০-৬০ লোক প্রিজাইডিং অফিসার খলিলুর রহমানের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে প্রকাশ্যে ১১৫টি ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ফেলে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী পুরোপুরি ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এই কেন্দ্রে মোট ভোট রয়েছে ২ হাজার ২১টি।এছাড়া খুলনা মহানগরীর ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় ভোটকেন্দ্র ও লবনচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, দুপুর ১২টার দিকে ৮-১০ জনের একদল দুষ্কৃতকারী কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে কাউন্সিলর প্রার্থী নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রাসেলের পক্ষে ঝুড়ি মার্কায় সিল মারে। এ ঘটনায় ভোটগ্রহণ তাৎক্ষণিক স্থগিত করা হয়। পরে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করা হয়। ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে ভোট রয়েছে ১ হাজার ৬৯১ এবং লবনচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা ২ হাজার ১৬। স্থগিত হওয়া তিন কেন্দ্রের মোট ভোট সংখ্যা ৫ হাজার ৭২৫টি। এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় ২১নং ওয়ার্ডের বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী মোল্লা ফরিদ আহমেদ ও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী শামসুজ্জামান মিয়া স্বপনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কাউন্সিলর প্রার্থী মোল্লা ফরিদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এছাড়া রেলওয়ে কিন্ডার গার্টেন কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীক ও কাউন্সিলর প্রার্থী শামসুজ্জামান মিয়া স্বপনের প্রতীকে ভোট দেয়। অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি বলে তিনি জানান। এছাড়া ২২নং ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলেও পরে ভোটগ্রহণ করা হয়। এই ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট আলী আকবরকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩০নং ওয়ার্ডে রূপসা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট সেলিম কাজীকে মারধর করা হয়। ভাঙচুর করা হয়েছে ৩১নং ওয়ার্ডের হাজি আব্দুল মালেক ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সামনের নির্বাচনি ক্যাম্পও। প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, গতকাল সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে নগরীর জিলা স্কুল কেন্দ্রে আলী আকবরকে মারধর করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকুর সমর্থকরা। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি দেখছি।’খালিশপুর ১১নং ওয়ার্ডের জামিয়াহ তৈয়্যেবাহ নূরানী তালিমুল কোরআন মাদরাসা কেন্দ্র থেকে সহোদর সিরাজকে কুপিয়ে আহত এবং আলমকে মারধর করা হয়। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া এ ওয়ার্ডে জামিয়া ইসলামিয়া আশরাফুল উলুম বয়স্ক মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী জামান মোলা জেলিনের এজেন্ট আসাদ ও হাবিবকে সকালেই কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ইবনুর রহমান জানান, দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগ পরিচয়ে ২০-২৫ জন যুবক কেন্দ্রে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করে। তারা কেন্দ্রের ২ থেকে ৫নং বুথে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে ব্যালট বাক্সে ঢোকানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় প্রিজাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিক র‌্যাব, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দেন। তারা এলে যুবকরা পালিয়ে যায়। ইবনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একঘণ্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু হয়।এদিকে বিকাল পৌনে চারটায় খালিশপুর উত্তর কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা সেখানে জাল ভোট দিচ্ছে। এ গুজব শুনে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা স্কুলের গেট ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলি ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান।