আয়ারল্যান্ডের আকাশে তীব্র আলোর জ্যোতি।

সৌরজগত নিয়ে মানুষের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এ নিয়ে অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে গবেষণা। এরই মাঝে আয়ারল্যান্ডের আকাশে ঘটে গেল চাঞ্চল্য এক ঘটনা। চার পাইলটের কেউ বলছেন ভয়ঙ্কর গতি। কেউ দেখেছেন, গোটা আকাশে তীব্র আলোর জ্যোতি ছড়িয়ে দিয়েছিল। কারো বক্তব্য, মুহূর্তে বিমানের বাঁ-দিক থেকে ডান দিকে অদৃশ্য হয়ে গেল। কেউ বা বর্ণনা করার ভাষাই পাচ্ছেন না, কারণ এমন কোনও ‘যান’ বা ‘যন্ত্র’ কখনও দেখেননি।

এমনই এক রহস্যময়, অদ্ভুত, অপরিচিত ‘বস্তু’ দেখা গেল আয়ারল্যান্ডের আকাশে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট’ (ইউএফও)।

বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা যায়, অন্তত চার জন পাইলট ওই অঞ্চল দিয়ে বিমান ওড়ানোর সময় সেই অদ্ভুত বস্তু দেখেছেন। এ নিয়ে আয়ারল্যান্ডে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবরও শুরু হয়েছে। রহস্যভেদে কাজ শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরাও।

চার জন পাইলটের বক্তব্যে দু’টি মিলও খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রচণ্ড গতি এবং তীব্র আলোয় গোটা আকাশ আলোকিত। একটি বেসরকারি সংস্থার মন্ট্রিয়ল থেকে লন্ডনগামী এক বিমানের চালক বলেছেন, ‘‘প্রথমে আমাদের বিমানের বাঁ-দিকে প্রচণ্ড আলোর ঝলকানি দেখলাম। মুহূর্তের মধ্যেই আবার অদৃশ্য হয়ে গেল।’’

অন্য এক পাইলট আবার বলেছেন, ‘‘সুপারসনিক বিমানের গতির চেয়েও বেশি ছিল গতি। আর আলো এতটাই জোরালো যে, ওরকম আলো দেখা যায়নি।’’

তবে বস্তু বা যান যেটাই হোক, সেটা আসলে কী? আয়ারল্যান্ডে এ নিয়ে এখন জল্পনা তুঙ্গে। গতির কথা মাথায় রেখে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, কোন সামরিক মহড়ার কারণে তীব্র আলো বা দ্রুতগামী যান দেখা যেতে পারে। তবে প্রাথমিক তদন্তে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে সেই সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড সরকার। কারো ধারণা, উল্কাপাতের কারণেও অনেক সময় তীব্র আলো দেখা যেতে পারে। তবে সাধারণত বায়ুমণ্ডলের এত নীচের স্তরে উল্কার আলো এত তীব্র থাকে না। তবে সম্ভাবনা এখনও বাতিল হয়নি। সব মিলিয়ে জল্পনা বেড়েই চলেছে। ঘণীভূত হচ্ছে রহস্য।