সজীব খান ॥ চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের সেনগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সুনামের সাথে পাঠদান চললেও রয়েছে ভবনের চরম সংকট। ভবনের চরম সংকটে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনী থেকে ১০ম শ্রেনীর পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিনিয়ত মারাত্বক প্রতিকূলতার সুমক্ষিন হয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। এ নিয়ে মহা বিপাকে রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।
জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বার বার বলার পর ও টনক নড়েনি শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষের। বর্তমানে ভবন সংকটে জর্জরিত রয়েছে এ বিদ্যালয়টি। চাঁদপুর আশিকাটির সেনগাঁও গ্রামে অত্যান্ত সুন্দরও মনোরম পরিবেশে স্থানীয় মরহুম ছিদ্দিক মাষ্টারের ব্যাক্তিগত উদ্যোগে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সুনামের সাথে শিক্ষা দিয়ে আসলে ও এ পর্যন্ত ভবন সংকট চলমান অবস্থায় রয়েছে। আশিকাটির সেনগাঁওসহ আস-পাশের গ্রাম ও বিশাল জনগোষ্ঠীর মাঝে অধুনিক শিক্ষার প্রশার ঘটিয়ে পরিচালনা হয়ে আসছে বিদ্যালয়টি।
বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে দশম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক ছাত্রী বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন রত রয়েছে। এ সব ছাত্রীর জন্য শিক্ষক রয়েছে মাত্র ৬জন। শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়মানুযায়ী ১জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ বর্গ মিটার জায়গার প্রয়োজন হয়, কিন্তু সেনগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১জন ছাত্র ছাত্রী ০.২৬.এর কম জায়গা নিয়ে পাঠদান করে আসছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, গন্থাগার, সব কিছুরই রয়েছে চরম সংকটে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নেই একটি শিক্ষক মিলনায়াতন। এর মধ্যে দিয়েই চলে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পাঠদান। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখ্য ও পরিতাপের বিষয় এই যে, নবম ও দশম শ্রেনীর গ্রুফের ক্লাস নেওয়ার সময় প্রর্যাপ্ত পরিমান কক্ষ না থাকার কারনে শিক্ষকদের ক্লাস নিতে মারাতœক সমস্যার সমুক্ষিন হতে হচ্ছে। এ জন্য শিক্ষার্থীরাও চরম বিপাকে রয়েছে। সুনামধন্য এ প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর সাফল্য জনক ফলাফল করে আসছে। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিনোদনের জন্য খেলা ধূলার জন্য মাঠের ও রয়েছে চরম সংকট। এর মাঝেই শিক্ষার্থীরা পাঠদান করে আসছে।
বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদককে জানান, আমাদের এ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনার অক্ষুন্ন রাখার জন্য আমরা নিয়মিত মনযোগ সহকারে পাঠদান করে আসছি, কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রর্যাপ্ত পরিমানে ভবন না থাকার কারনে সাধরণ ক্লাসের পাশা-পাশি গ্রুফের ক্লাস নিতে আমাদের মারাত্মক হিমশীম খেতে হচ্ছে।
আমাদের এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিতে অতি জরুরী ভাবে ভবন না করা হলে পাঠদানে আমাদের মারাত্বক ব্যাঘাত ঘটবে।
বিদ্যালয়ের পরিচলনা কমিটির সভাপতি, আশিকাটি ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নিয়মিত শিক্ষকরা শিক্ষা দিয়ে আসছে, অভিভাবকদের নিয়ে অভিভাবক সমাবেশ, মা সমাবেশসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়ন করার জন্য মত বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। অভিভাবকদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, কোন ছাত্রী যদি ১দিন ক্লাসে না আসে, পরের দিনেই তার খোঁজ খবর নেওয়া হয়, কিন্তু এত কিছুর পরও বিদ্যালয়টিতে ভবন না থাকার কারনে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনোযোগ হারাচ্ছে। বিদ্যালয়ের অর্ধকেরও বেশি শিক্ষার্থীদের বিনা ভেতনে অধ্যায়ন রত রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একান্ত আন্তরিকতার সাথে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসছে। ছাত্রীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচারন করে তাদেরকে পড়া লেখার প্রতি উৎসাহ জোগার করছে। কোন ছাত্রী যদি পড়া লেখার অমনোযোগী হয়ে পড়ে, তাকে আমাদের বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পড়া লেখার মনোযোগ হওয়ার জন্য সকল ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মাঝে যখন গ্রুফের ক্লাস নিতে যাই,তখন প্রর্যাপ্ত পরিমান কক্ষ না থাকার কারনে পাঠদান করাতে সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসীর একটাই দাবী বিদ্যালয়টিতে সফলতার ধারা অব্যাহত রাখার জন্য অতিজরুরী ভাবে ভবন করা জন্য বলে তিনি জানিয়েছে। তাই তিনি বিষয়টি শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।