নোমান মাহমুদঃ রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত স্বনামধন্য চিকিৎসা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আলোক হেলথ কেয়ার লিঃ এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আলোক হাসপাতাল লিঃ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের ১৫ই ফেব্রুয়ারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি বিশেষজ্ঞ পরিদর্শন টিম হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করলে প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পরে।
এঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কর্মকান্ড বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম জনস্বাস্থের জন্য হুমকি হিসাবে উল্লেখ করে গত ২৭ শে ফেব্রুয়ারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডাঃ কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরীত এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রম বন্ধের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সাথে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না তা পরবর্তী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠির সুত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ই ফেব্রুয়ারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ টিম প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনকালে দেখতে পান স্বাস্থ্য সেবার মত একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে তারা দেশের জনসাধারনকে সেবা দিচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন ছাড়াই। এমনকি লাইসেন্সের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কোন আবেদনও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ করেনি। সম্পূর্ণ লাইসেন্সবীহিনভাবে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির হালনাগাদ ইনকাম ট্যাক্স সনদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নারকোটিক লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সঠিক নয় বলে চিঠিতে জানানো হয়।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আলোক হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার ২০ দিন পার হলেও এখনো প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করেনি কর্তৃপক্ষ। যেখানে দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানের জনসাধারনকে কোন প্রকার সেবা দেওয়ার সুযোগ নেই, সেখানে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বন্ধের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে সে প্রশ্নের উত্তর নেই কারোও কাছেই। এদিকে অনুমোদনবিহীন ও বন্ধ ঘোষিত একটি হাসপাতাল কর্তৃক সাধারন রোগীরা কি সেবা পাচ্ছে সে বিষয়টিও সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বন্ধের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন প্রতিষ্ঠানটি তাদের সকল কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রেখেছে তা জানতে চাইলে আলোক হেলথ কেয়ার লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ লোকমান হোসেন আওয়ার নিউজ ২৪ ডটকম’কে বলেন, ”স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠি আমরা পাইনি, চিঠি পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।”
একেতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই, তার উপর জনসাধারনের স্বাস্থ্যঝুকি নিয়ে পরিচালিত হওয়া একটি অনুমোদনবীহিন প্রতিষ্ঠান কিভাবে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বন্ধের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে অবৈধভাবে পরিচালিত হয়েও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয় জানায় তা জানতে চাইলে তিনি (মোঃ লোকমান হোসেন) বলেন, ”স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধিকার আছে আমাকে নোটিশ করার, আর আমারও অধিকার আছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার। আমরা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি, তারা যদি আমাদের লাইসেন্স না দেয়, তাহলেতো আমাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতেই হবে। আমিতো আর আমার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে পারবো না”।

আলোক-

এদিকে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার কথা বললেও কতদিন আগে আবেদন করা হয়েছে এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ লোকমান হোসেন। প্রতিবেদকের কাছে কৌশলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সুত্র বলছে, আলোক হাসপাতাল লিঃ কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য কোন আবেদনই করেনি।