আপনার ত্বকের যত্ন

Smiley face

এই পহেলা নববর্ষে আপনি কিভাবে আপনার ত্বক উজ্জ্বল রাখবেন সেই নিয়ে কি হতাশ? আর নয় হতাশ এই পহেলা নববর্ষে আপনি আপনার ত্বককে কিভাবে উজ্জ্বল এবং মসৃণ রাখবেন তাই আজ আলোচনা করবো।

বিভিন্ন ত্বকের উপযোগী ফেইস প্যাক

১. মসুর ডালের ফেইস প্যাক
মসুর ডালের ফেইস প্যাক ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে। মুখের ছিদ্র ছোট করতে, ত্বক উজ্জ্বল করতে এবং রোদে পোড়া ভাব দূর করতে ব্যবহার করা হয়। ব্রণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ত্বককে মসৃণ করে, ত্বকে পুষ্ট এবং তেল মুক্ত করে।
উপযুক্তঃ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
প্রক্রিয়া

মসুরের ডাল সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
সকালবেলা মসুরের ডালগুলোর ঘন পেস্ট তৈরি করুন।
১/৩ কাপ কাঁচা দুধ যোগ করুন।
ডালের সাথে ভালোভাবে মিশ্রণ করুন এবং একটি পেস্ট তৈরি করুন।
পেস্টটি বৃত্তাকারভাবে পুরো মুখে প্রয়োগ করুন।
২০ মিনিটের জন্য মুখে রেখে দিন।
ঠান্ডা এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
কতবার ব্যবহার করবেন?
সপ্তাহে ৪ বার।

২. ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য মসুর ডালের ফেইস প্যাক
মসুর ডালের এই ফেইস প্যাকটি ত্বকে কালো দাগ দূর করে ,উজ্জ্বলতা বাড়ায়, ব্রণ প্রতিরোধ করে এবং ত্বকের শুষ্কতা কমায়।
উপযুক্তঃ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
প্রক্রিয়া

একটি পাত্রে ৫০ গ্রাম মসুরের ডাল সারারাত ভিজিয়ে রাখুন।
সকাল বেলা ভিজানো মসুরের ডাল পেস্ট তৈরি করুন।
১ চা চামচ কাঁচা দুধ এবং ১ চা চামচ বাদাম তেল পেস্টটিতে মিশান।
আপনার মুখে ফেইস প্যাকটি আলতো করে লাগান।
১৫-২০ মিনিট রেখে দিন।
ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
কতবার ব্যবহার করবেন?
সপ্তাহে ২ বার।

৩. দই এবং হলুদের ফেইস প্যাক
উপযুক্তঃ সব ধরণের ত্বকের জন্য।
প্রস্তুত সময়
২ মিনিট
প্রক্রিয়া

একটি পাত্রে দই এবং হলুদ একসাথে নিয়ে ভালভাবে মিশ্রণ করুন।
একটি ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন এবং শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন।
মিশ্রণটি মুখে লাগান এবং ১৫ মিনিট মুখে রেখে দিন।
কুসুম গরম পানি দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
কতবার?
সপ্তাহে ১ বার।
এটা কিভাবে সাহায্য করে?
হলুদে খুব ভালো এ্যান্টিসেপ্টিক এবং এ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য আছে যা ব্রণকে মেরে ফেলতে সক্ষম। ত্বক পরিষ্কার করা ছাড়াও এই ফেইস প্যাকটি আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলে।

৪. দই এবং লেবুর ফেইস প্যাক
উপযুক্তঃ স্বাভাবিক এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য।
উপকরণ

২ টেবিল চামচ দই
১ টেবিল চামচ লেবুর রস
প্রস্তুত সময়
২ মিনিট
প্রক্রিয়া

একটি পাত্রে দই এবং লেবুর রস একসাথে নিয়ে মশ্রিণ পেস্ট না হওয়া পর্যন্ত মিশাতে থাকুন।
একটি ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন এবং তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন।
মিশ্রণটি মুখে লাগান এবং ১৫ মিনিট মুখে রেখে দিন।
কুসুম গরম পানি দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
কতবার?
সপ্তাহে ১ বার।
এটা কিভাবে সাহায্য করে?
লেবুর রস ভিটামিন সি (C) সমৃদ্ধ যা আপনার মুখে কোলাজেনের উন্নতি করে ত্বকের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম। আপনার ত্বকের তৈলাক্ততার ভারসাম্য রক্ষা করে। এবং দাগ দূর করে।

৫. দই এবং ওটসের ফেইস প্যাক
উপযুক্তঃ স্বাভাবিক এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য।
উপকরণ

১ টেবিল চামচ দই
২ টেবিল চামচ ওটস
১ টি ডিম
প্রস্তুত সময়
৫ মিনিট
প্রক্রিয়া

একটি পাত্রে দই, ওটস এবং ডিম একসাথে নিয়ে ভালভাবে ম্যাস করি।
এমনভাবে মিশান যাতে করে একটি মসৃণ পেস্ট হয়।
একটি ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন এবং তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন।
মিশ্রণটি মুখে লাগান এবং ১৫ মিনিট মুখে রেখে দিন।
কুসুম গরম পানি দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
কতবার?
সপ্তাহে ১ বার।
এটা কিভাবে সাহায্য করে?
ওটমিল খুবই ভালো স্ক্রাবিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে যা ত্বকের মরা চামড়া দূর করে। যখন এটিকে দই এবং ডিমের সাথে মিশানো হয় তখন এটি খুবই চমৎকার ফেইস প্যাক হয় যা ব্ল্যাকহেডস এবং ব্রণ দূর করে আপনাকে পরিষ্কার ত্বক প্রদান করে।

৬. দই এবং টমেটোর ফেইস প্যাক
উপযুক্তঃ সব ধরণের ত্বকের জন্য।
উপকরণ

১ টেবিল চামচ দই
১/২ টেবিল চামচ টমেটো
প্রস্তুত সময়

২ মিনিট
প্রক্রিয়া

একটি পাত্রে দই এবং টমেটোর রস একসাথে ম্যাশ করি।
একটি ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন এবং তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন।
মিশ্রণটি মুখে লাগান এবং ১৫ মিনিট মুখে রেখে দিন।
কুসুম গরম পানি দিয়ে মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
কতবার?
সপ্তাহে ১ বার।
এটা কিভাবে সাহায্য করে?
এটি একটি রোদে পোড়া ভাব দূরকারী ফেইস প্যাক।যা ব্রণ হ্রাস এবং ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। টমেটোর সামান্য এসিডিক পিএইচ আপনার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে।

৭. দই এবং আলুর ফেইস প্যাক
উপযুক্তঃ সব ধরণের ত্বকের জন্য।
উপকরণ

২ টেবিল চামচ দই
১ টেবিল চামচ আলুর পেস্ট
১ টেবিল চামচ কাঁচা মধু
প্রস্তুত সময়
২ মিনিট
প্রক্রিয়া

একটি পাত্রে দই, আলুর পেস্ট এবং মধু একসাথে নিয়ে মিশায়
একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
একটি ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন এবং তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন।
মিশ্রণটি মুখে লাগান এবং ১৫ মিনিট মুখে রেখে দিন।
কুসুম গরম পানি