আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে কর্মব্যস্ত জেলেরা।

নওগাঁ প্রতিনিধি :-
নওগাঁর আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে কর্মব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন সেখানকার জেলেরা।
নতুন পানিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ শিকারীতে তৎপর হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আবার অনেক জেলে সারা রাত মাছ শিকার করে থাকে। দীর্ঘদিন মাছ শিকার থেকে অবসরে থাকার পর নতুন পানি আসার সাথে সাথে জেলেদের মাঝেও শুরু হয়েছে প্রাণ চাঞ্চল্যতা।
জানা যায়, আত্রাই উপজেলায় প্রায় ২ সহশ্রাধিক জেলে পরিবার রয়েছে। যাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবার। এসব পরিবারের ভরণ-পোষণ ব্যয়ভার বহন করেন পরিবারের কর্তারা মাছ শিকার করে। কালের আবর্তে আত্রাই নদীসহ খালবিল পৌষ/মাঘ মাসের দিকে পানি শূন্য হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ জেলেদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। প্রায় তিন চার মাস সময় মাছ শিকার করতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়েও তাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। এবারে তুলনা মূলক একটু আগেই নদী ও খালবিলে পানি আসায় স্থানীয় জেলেদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। জেলেরা নদীর বিভিন্ন মোহনায় ও বাঁকে বাঁকে এবং খালের প্রবেশ মুখে খরাজাল পেতে মাছ শিকার শুরু করেছে। তাদের জালে ধরা পরছে দেশীপ্রজাতির ছোট মাছ। আর রমজান মাসে বাজারে এ মাছগুলোর কদর অনেক বেশি। এ জন্য চড়া দামে মাছ বিক্রি করতে পেরে তাদের পরিশ্রমকে স্বার্থক মনে করছে জেলেরা।
উপজেলার সমসপাড়া গ্রামের ধীরেন হাওলদার বলেন, গত কয়েকদিন থেকে এখানে আমি খরাজাল পেতেছি। তুলনা মূলক মাছ অনেক কম হচ্ছে। তবে বাজারে দাম ভাল পাওয়ায় অনেকটা পুষিয়ে যাচ্ছে। মাছ ক্রেতা প্রভাষক রুহুল আমীন বলেন, আজ (গতকাল) বাজারে মাছ কিনতে গেলাম। নদীর ছোট মাছ পেলাম বটে তবে দাম এত বেশি যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। রমজান মাসে পুকুরে চাষ করা মাছের চেয়ে নদীর মাছ অল্প হলেও খেয়ে মজা আছে। তাই এ মাছের প্রতিই আমাদের আকর্ষণ বেশি। আত্রাই উপজেলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ভূষণচন্দ্র হাওলদার বলেন, যে সময় নদী ও খালবিল সুকিয়ে যায়, ওই সময় মৎসজীবীদের সরকারী ভাতার আওতায় নেয়া প্রয়োজন। তা না হলে আমাদের চরম মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়।
উপজেলা মৎস্য অফিসার আনোয়ারুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যেই জেলেদের নিবন্ধন করা হয়েছে। সরকারী সুযোগ সুবিধা আসলে তারা অবশ্যই পাবে।