আজ পরাশক্তি ভারতের সামনে উজ্জীবিত বাংলাদেশ

    অঘোষিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ পেল টাইগাররা। আগের দুটি ফাইনালে অবশ্য শেষ হাসি হাসতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার কি সে আক্ষেপ দূর হবে? মাশরাফিরা কি পারবেন ভারতকে হারিয়ে ২০১৬ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিতে? পারবে কি প্রথমবারের মতো ক্রিকেটে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয় করতে? নাকি আগের দুবারের মতো এবারো শিরোপা জিততে ব্যর্থ হবে টাইগাররা? প্রতিটি টাইগার সমর্থকের মনে এখন এসব প্রশ্ন। তবে প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। আজ দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচেই হবে শিরোপার নিষ্পত্তি। বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, জিটিভি, মাছরাঙা ও স্টার স্পোর্টস।
    এশিয়া কাপ মানেই যেন ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়া কাপের ১৩টি আসরের মধ্যে ৬টিরই শিরোপা জিতেছে তারা। টুর্নামেন্টটির সর্বশেষ আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে বাংলাদেশে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্বাগতিকদের হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন রোহিত শর্মারা। তাই আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য প্রতিশোধের মিশন। শুধু তাই নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিপক্ষে আরো অনেক প্রতিশোধের একটি ম্যাচ। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল টাইগারদের। এর ২ বছর আগে ২০১৫ সালের বিশ^কাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও ভারতের বিপক্ষে হেরেছিলেন মাশরাফিরা। আজ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জিততে পারলে এসব হারের প্রতিশোধ নেয়া যেমন হবে, তেমনি শিরোপা জেতাও হবে টাইগারদের। তাই এ ম্যাচে নিশ্চয় টাইগাররা তাদের সামর্থ্যরে সবটুকু উজাড় করে দেবে।
    শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এবারের এশিয়া কাপে পথচলা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে হেরে যায় টাইগাররা। সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। ওই ম্যাচটিতে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে স্টিভ রোডসের শিষ্যরা। তবে সুপার ফোরের শেষ দুটি ম্যাচে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়া কাপের বর্তমান রানারআপরা। অন্যদিকে ভারত এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচেও হারেনি। রবি শাস্ত্রীর শিষ্যরা গ্রুপ পর্বে হারিয়েছে হংকং ও পাকিস্তানকে। এরপর সুপার ফোরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র করেছে এম এস ধোনিরা।
    অতীত রেকর্ড ও সাম্প্রতিক পারফরমেন্সের বিবেচনায় আজকের ম্যাচে নিঃসন্দেহে ফেভারিট ভারত। বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানের দল ভারত ও র‌্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানের দল বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মোট ৩৪টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে ভারতের ২৮টি জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৪টি। এ ছাড়া ফল হয়নি অবশিষ্ট ১টি ম্যাচে। এশিয়া কাপে দুদল ১১ বার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে ভারত জিতেছে ১০টি এবং বাংলাদেশ জিতেছে ১টি ম্যাচে।
    নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে বিশ্রামে রেখেই এবারের এশিয়া কাপে খেলতে এসেছে ভারত। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের দলে না থাকাটা নিশ্চয় স্বস্তির কারণ হতে পারে বাংলাদেশের জন্য।
    আজকের ম্যাচটিকে একদিক দিয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলারদের লড়াই বলেও আখ্যায়িত করা যায়। এবারের এশিয়া কাপে দারুণ ছন্দে আছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যানদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান। এ ছাড়া তালিকার তিন নম্বরে আছেন আরেক ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা। অন্যদিকে বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে শেষ দুই ম্যাচে জয় পাওয়া এবং দলের সেরা বোলার মোস্তাফিজের ছন্দে থাকা। আর ৩টি উইকেট পেলেই রশিদ খানকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলারদের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসবেন কাটার মাস্টার। এখন তার উইকেট ৮টি। অন্যদিকে ব্যাটিংয়ে মুশফিকের ছন্দে থাকাটাও টাইগারদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
    আঙুলের ইনজুরির কারণে ইতোমধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সে হিসেবে আজ সাকিবকে ছাড়াই খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের মতো আজও ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই জ¦লে উঠে আজকের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসবে বাংলাদেশ এমনই প্রত্যাশা টাইগার সমর্থকদের।