ডিজিটাল প্রযুক্তির সব ধরণের সুবিধা সম্বলিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নতুন ১০তলা ভবনের উদ্বোধন করা হবে আজ ২৩ জুন। দলের ৬৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলের নেতাকর্মীদের নতুন কার্যালয়টি উপহার হিসেবে দেবেন সভাপতি শেখ হাসিনা। এদিন সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ নতুন কার্যালয় ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা এমপি। তথ্য মতে, দৃষ্টিনন্দন ১০ তলা ভবনটি দলের নিজস্ব তহবিল থেকে থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভবন নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কাজে হাত দেওয়া হয়। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। সেই হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলের সভাপতি শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন ২৩ জুন দলের ৬৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের নতুন ভবন উপহার দিতে। এজন্যই চার মাস আগেই ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে দলের নেতাকর্মীদের জন্য নতুন কার্যালয় একটি উপহার। নতুন করেই শুরু হবে পথচলা। আশা করছি নতুন ভবন আমাদের জন্য নতুন বিজয় বয়ে আনবে।’ গত বৃহস্পতিবার ভবন ঘুরে দেখা যায়, নতুন ভবনের কাজ শেষ, সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও শেষ পর্যায়ে আনা হয়েছে। নবনির্মিত ভবনের ৬ তলা পর্যন্ত থাকবে মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় । প্রস্তুত হয়েছে কনফারেন্স হল, সেমিনার রুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি, ভিআইপি লাউঞ্জ, ক্যান্টিন, সাংবাদিক লাউঞ্জ ও ডরমিটরি। পুরো ভবনটি ওয়াইফাই জোনের আওতায় আনা হবে। দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য আলাদা বড় আকারের অফিস রুম তৈরি করা হয়েছে। ভবনটির তৃতীয় তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোর চার হাজার ১০০ বর্গফুটের। চতুর্থতলা থেকে উপরের সব কয়টি ফ্লোর তিন হাজার ১০০ বর্গফুটের। দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে ৩৫০ জনের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তৃতীয় তলায় ২৪০ জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চমতলায় ডিজিটাল লাইব্রেরি, মিডিয়া রুম। সাত, আট ও নয় তলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও সভাপতিম-লীর সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কক্ষ রাখা হয়েছে। নবমতলায় আওয়ামী লীগ সভাপতির অফিস বুলেটপ্রুফ ডাবল গ্লাস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। অস্টম তলায় সাধারণ সম্পাদকের অফিস। সপ্তম তলায় বসবেন দলের কোষাধ্যক্ষ। দশম তলায় থাকছে ক্যাফেটোরিয়া। ভবনের নিচ তলায় হাতের বাম পাশে রয়েছে অভ্যর্থনা ডেস্ক। ভবনের সামনের দেয়ালের দুইপাশ কাচ দিয়ে ঘেরা আর মাঝখানে সিরামিকের ইটের বন্ধন। সামনের দেয়ালজুড়ে দলের সাইনবোর্ডসহ মুক্তিযু্দ্েধর রণধ্বনী ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’র পাশাপাশি ৭২ এর সংবিধানের চার মূলনীতি খোদাই করে লেখা আছে।আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, উদ্বোধনের দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ হতে। আর ধানমন্ডিস্থ সভাপতির কার্যালয়ে গবেষণাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুুবুল উল আলম হানিফ বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে নতুন ভবন উদ্বোধন নেতাকর্মীদের বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাবে। আওয়ামী লীগের মতো দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ধানমন্ডির সভাপতির কার্যালয় হতে চালানো কঠিন হতো। এখন থেকে সে সমস্যা থাকবে না, সারা দেশের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসার সুযোগ পাবেন। ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই নতুন ভবন নির্মানের জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি ভাঙা হয়। এরপর আশপাশের বিভিন্ন ভবনে ভাড়া অফিসে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে দলটি আওয়ামী লীগসহ সহযোগি সংগঠনগুলো। উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠার পর শীর্ষ নেতাদের বাসায় বসে দল পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন সময়ে ৮ টা বার দলটির অফিস বদল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ১৯৬৪ সালে ৯১, নবাবপুর রোডে দলের অফিস ভাড়া নেন তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর সর্বশেষ ১৯৮১ সালে দায়িত্ব নিয়ে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। প্রতিষ্ঠার প্রায় সাত দশক পর স্বয়ংসম্পূর্ণ ভবন পেল আওয়ামী লীগ।