অন-কলে চলছে ল্যাবস্টার হাসপাতাল

Smiley face

0
50
Smiley face

নোমান মাহমুদঃ সঠিক তদারকির অভাবে দিনের পর দিন দেশের প্রাইভেট স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম অসহনীয় পর্যায়ে পৌছলেও এনিয়ে মাথা ব্যাথা নেই কারো। মালিকদের কাছে অনেকটাই  ’রোগীরা’ খদ্দের আর ’সেবা’ হলো পন্য। যেই পন্যের মান যাচাইয়ের সুযোগ নেই রোগীদের। সেবার মূল্য রোগীরা পরিশোধ করলেও চিকিৎসা সেবা নামক পন্যের মান কেমন হবে তা নির্ভর করে প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতাল মালিকদের খেয়ালের উপর।

 রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জনবহুল একটি উপজেলা সাভার। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো মানুষ জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমায় এই উপজেলায়। আর এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে প্রস্তুত সাভারের অলিতে-গলিতে অবস্থিত অসংখ্য প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতাল-ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। এমনই একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ’ল্যাবস্টার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক’। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাভারের পৌর এলাকা গেন্ডার তারামিয়া সড়কে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটির অনুকুলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন থাকলেও তার মেয়াদ শেষ হয় বিগত ২০১৭ সালে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ব্যাতিত প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট রেজিঃ, ইনকাম ট্যাক্স, নারকোটিক, ড্রাগ লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস এমনকি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত নেই। সম্পূর্ণ ঝুকিপূর্ণভাবে হাসপাতাল বর্জ্য অপসারন করা হচ্ছে পৌরসভার সাধারন ময়লার গাড়িতে।

এদিকে ১০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে নিয়মানুযায়ী সার্বক্ষনিক ১ জন কর্তব্যরত চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও চিকিৎসকের পরিবর্তে ডাঃ সেজে সেই দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান। ভিজিটিং কার্ডে নামের আগে ”ডাঃ” যোগ করে প্রতিষ্ঠানটি চালুর পর থেকেই আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন তিনি। যদিও প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি (মোঃ মিজানুর রহমান) বলেন, ” সবসময় না, রোগীর সংখ্যা কম হওয়ায় এবং কিছু সমস্যার জন্য গত কিছুদিন যাবত চিকিৎসকের পরিবর্তে আমিই ডিউটি ডাক্তার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি”।

কিন্তু ডাক্তার না হয়েও কিভাবে তিনি আগত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ”আমি এম.বি.বি.এস পাশ করি নাই তবে ম্যটস (মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) সার্টিফিকেট আমার আছে। আর ক্রিটিকাল কোন রোগী এলে অন-কলে ডাক্তার এসে চিকিৎসা দেন”।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিতে রক্ত আদান-প্রদান, ক্রস মেচিং- স্ক্রিনিংসহ রক্ত সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। রক্ত সঞ্চালন আইনে ব্লাড ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া এসকল কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

ল্যাবস্টার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামক সাভারের এই প্রাইভেট ক্লিনিকটির যাবতীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষনে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটির সাধারন রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের নূন্যতম সক্ষমতা না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি সকল আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করেই দিব্বি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। আর সাধারন রোগীরা  তাদের অজ্ঞাতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন নাকি অপচিকিৎসা  তা বলাই বাহুল্য।

LEAVE A REPLY