অনুমোদন ছাড়াই চলছে যমুনা ডিজিটাল হাসপাতাল

”স্বাস্থ্য ঝুকিতে রোগীরা”

Smiley face

0
75
Smiley face

নোমান মাহমুদঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ ঝুকিপূর্ণভাবে সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে যমুনা ডিজিটাল হাসপাতাল। সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন কর্ণপাড়া এলাকায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনতো নেই, এমনকি নেই কোন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ছাড়পত্র, নারকোটিক, ফায়ার সার্ভিস কিংবা পৌরসভা ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় অনুমোদন সমুহের তথ্য চেয়ে প্রতিবেদক তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আরিফ বিল্লাহ প্রতিবেদককে যমুনা ডিজিটাল হাসপাতালের অনুমোদনের স্থলে দীর্ঘদিন পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া সাভারের পৌর এলাকা গেন্ডার নিউ সেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ৩টি কাগজ সরবরাহ করেন। যার মধ্যে রয়েছে নিউ সেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অনুকুলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও প্যথলজি লাইসেন্স এবং ছাড়পত্রের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক আবেদন গ্রহনের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র। এর মধ্যে হাসপাতাল ও প্যথলজির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে বিগত ২০১৩ সালে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক আবেদন গৃহিত হয়েছে ২০১২ সালে। সরবরাহকৃত কাগজের মধ্যে যমুনা ডিজিটাল হাসপাতালের অনুকুলে শুধুমাত্র অনলাইন ভ্যাট রেজিঃ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। আর যে ট্রেড লাইসেন্স সরবরাহ করা হয়েছে তা যমুনা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক এন্ড কনসালটেন্সী নামে পৌরসভা কর্তৃক ইস্যুকৃত।

অন্যদিকে সরেজমিনে হাসপাতালটি পরিদর্শনে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় সামান্য একটু জায়গায় তৈরী করা হয়েছে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ এবং ২য় তলার ফ্লাটে একটি কক্ষকে হাসপাতালের রিসিপশন, একটি কক্ষে এক্স-রে ও পাশেই একটি কক্ষে চলছে প্যথলজি কার্যক্রম। কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াই টেকনোলজিষ্ট দিয়ে রোগীদের পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। জরুরী মুহুর্তে রোগীকে দ্রুত অন্যত্র প্রেরনের জন্য নিজস্ব এম্বুলেন্স ব্যবস্থাতো নেই তার উপর ঝুকিপূর্ণভাবে ভবনের সরু সিড়ি দিয়ে ওঠানো-নামানো হচ্ছে রোগীদের।

কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে যমুনা ডিজিটাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে তা জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আরিফ বিল্লাহ আওয়ার নিউজ ২৪ ডটকম’কে বলেন, ”আমার নামেতো নিউ সেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের লাইসেন্স আছেই। আমি সেই লাইসেন্স নাম পরিবর্তন করে নিবো, আর অন্যান্য অনুমোদনের জন্য খুব শীঘ্রই আবেদন করা হবে।”

মালিকানা এক থাকলেও নাম পরিবর্তন না করেই এক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দিয়ে ভীন্ন নামের কোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ আছে কিনা এবিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ”যতক্ষন নাম পরিবর্তন না হচ্ছে ততক্ষন সেটা কোনভাবেই সম্ভব না। একই মালিকানায় একাধীক প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে, তার মানে এই নয় যে এক লাইসেন্স দিয়েই সব প্রতিষ্ঠান চলবে। প্রতিষ্ঠান ভীন্ন হলে লাইসেন্সও ভীন্ন হবে। তাছাড়া শুধু নাম পরিবর্তনের আবেদন করলেই হবে না, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে লাইসেন্স ইস্যু করার পরই তা কার্যকর হবে”।

LEAVE A REPLY